সিলেট বিভাগে বন্যা-টিলাধস: মৃত্যু ২২

0 7

|| বঙ্গকথন প্রতিবেদন ||

সিলেট বিভাগে গেলো কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ হয়েছে। টিলা ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভাগে দেখা দিয়েছে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায়।

বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা। সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।

এ অবস্থায় সিলেট বিভাগে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪ জন, হবিগঞ্জে পাঁচজন ও মৌলভীবাজারে তিনজন।

মঙ্গলবার সকালে সিলেটের জৈন্তাপুরে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া মা-ছেলের মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠে।

বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানালেও তাৎক্ষণিক সর্বশেষ দুজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, গেলো শুক্রবারে নাজমুন্নেসা তার ছেলেকে নিয়ে পাশের গ্রামে মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মেয়ের বাড়িতেও পানি ওঠে। সেখান থেকে ফেরার পথে মা-ছেলে সড়কের পাশে পানিতে তলিয়ে যান। আজ তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে।

কানাইঘাটে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে একজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম। শুক্রবার মরদেহ উদ্ধার হলেও এ তথ্য জানা গেছে সোমবার। তবে তার নাম জানাতে পারেননি ওসি।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হক সোমবার জানিয়েছেন, বন্যায় এ পর্যন্ত তিনজন মারা যাওয়ার খবর তিনি জেনেছেন। এর মধ্যে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও দুজন পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। এছাড়া পানিতে ভেসে যাওয়া একজন এখনো নিখোঁজ আছেন।

তবে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম আহমদ জানান, পানিতে তলিয়ে উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে আরো দুজন মারা গেছেন। তারা হলেন ছাত্রলীগ নেতা এ কে আবুল কাশেম ও তার দাদি ছুরেতুন নেছা। তাদের বাড়ি ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে আরো চারজনের মৃত্যুর কথা জানালেও তাদের নাম-পরিচয় এবং কীভাবে কিংবা কোন এলাকার ঘটনা তার সন্ধান মেলেনি।

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যাকবলিতদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,  আমরা কানাইঘাট থেকে অসুস্থ অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে মৃত্যুর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি।

এবি//এফএস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More