শহীদ নূর হোসেনঃ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম

0 22

।। বঙ্গকথন প্রতিবেদক ।।

১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে নূর হোসেনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলার মাটিতে সৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। আর তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকার নামকরণ হয় শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার আর ১০ নভেম্বরকে ঘোষণা করা হয় নূর হোসেন দিবস হিসেবে।

আশির দশকের শুরু থেকে বাঙালির জীবনে নেমে আসে কালরাত্রির আঁধার। সে আঁধার আর কেউ নয়; স্বয়ং হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। নিজেকে সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে সামরিক শাসন জারি করেন, স্থগিত করেন সংবিধান। শুরু হয় তার স্বৈরাচারী শাসন। এরপর ১৯৮৩’র শিক্ষানীতি বাতিলসহ তিন দফাদাবি উত্থাপনের মধ্য দিয়ে এরশাদ সরকারের স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে সারাদেশে।

সেই আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। সেদিন এরশাদের বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামেন।

১৯৬১ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করে নূর হোসেন।। বাঁচার তাগিদে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসেন। তার পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন বেবিট্যাক্সি চালক। তিনি নিজেও ছিলেন একজন পরিবহন শ্রমিক। আর সবার মতো বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন দেশের মাটিতে ফের স্বৈরাচারের শাসন মেনে নিতে পারেন নি নূর হোসেন। কোমরে বাধাঁ শার্ট, পরনে জিন্সপ্যান্ট, পায়ে কেডস। নগ্ন বুক জুড়ে আঁকা- ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’। নূর হোসেনের পুরো শরীরটাই যেন এক জীবন্ত পোস্টার। বলিষ্ঠ কণ্ঠে এরশাদ বিরোধী প্রতিবাদী স্লোগান। এমন অগ্নিঝরা কণ্ঠ আর গায়ে জ্বালা ধরানো পোস্টার সহ্য করতে পারে নি স্বৈরাচারী সরকার। পুলিশের নিষ্ঠুর বুলেট তেড়ে আসে নূর হোসেনের বুকে। জীবন্ত পোস্টার বেয়ে রক্ত ঝরে ঢাকার রাস্তায়। এমন সময় এক যুবক তাকে রিক্সায় করে হাসপাতালে নেয়ার পথে রিক্সা থামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় পুলিশের দল। মৃত্যুযন্ত্রণায় নূর যখন ছটফট করছিলেন তখন এক পুলিশ সদস্য বুটের তলা তার বুকের ওপর চেপে ধরে। নির্মমতার সেই ধাপে এসে সেদিন স্বৈরাচারী পুলিশের হাতে প্রাণ যায় নূর হোসেনের।

তবে সেখানে থামে না আন্দোলনের দাবানল। নূরের রক্তঝরা মরাদেহ জলন্ত পোস্টার হয়ে সারা শহরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার মৃত্যুতে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন হয় স্বৈরাচারী সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের।

জেআর/এমএস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More