‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ শিল্পকর্মের ধান কাটা উৎসব শুরু

0 102

||রাকিবুল ইসলাম, শেরপুর থেকে ফিরে||

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রপফিল্ড মোজাইক ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ফসল কাটার উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে নির্মিত এই শস্যচিত্রের ধান কাটার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদে’র উদ্যোগে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় বালেন্দা গ্রামের ১০০ বিঘা কৃষি জমিতে এই কর্মযজ্ঞের শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। ২৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে রোপন করা হয় সবুজ ও বেগুনি রঙের ধানের চারা। তথ্য আর কৃষি প্রযুক্তির সহায়তায় উত্তরের তীব্র শীতে ধানের চারায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করে তেজোদ্দীপ্ত বঙ্গবন্ধু।

প্রায় ১৩ লাখ বর্গমিটার আকৃতির সবুজ ক্যানভাসে জাতির পিতার মুখাবয়ব ফুটে ওঠার পর ১৬ মার্চ গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শষ্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এই শিল্পকর্মকে। পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে এই স্বীকৃতি বাঙালির ইতিহাসে যোগ করে নতুন মাত্রা।

সোমবার ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধান কাটা উৎসব অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতকে করোনার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। তেমনিভাবে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীকে রুখতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে বাংলার মাটিতে প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই পরামর্শ দিয়ে সাহস যুগিয়েছিলেন বলেই এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে গবিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি মিলেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই ২৬মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কলুষিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তারা। তাদের সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হলেও মসজিদ ও মাদ্রাসাকে কলুষিত করেছে এই মৌলবাদী গোষ্ঠী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন,আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সহ-সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদে’র সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু।

পরে অতিথিরা মাঠে নেমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফসল কাটার উৎসবের সূচনা করেন। শস্যচিত্রটি নির্মাণের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’ জানিয়েছে, এই ১শ বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৬শ মণ ধান উৎপাদিত হবে। প্রক্রিয়াজাত করার পর যার ৭৫ শতাংশ দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। বাকি অংশ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে এবং দেশের সবগুলো জেলায় স্মারক হিসেবে পাঠানো হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা এই শস্যচিত্রের আকার ১২লাখ ৯২ হাজার বর্গমিটার। এর দৈর্ঘ্য ৪শ মিটার এবং প্রস্থের আকার ৩শ মিটার। এর আগে ২০১৯ সালে চীনে তৈরী ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গমিটারের শষ্যচিত্রটি ছিলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ শষ্যচিত্র। এখন সেই স্থানটি স্বমহিমায় দখলে রাখলো জাতির পিতার এই শষ্যচিত্র।

আরআই//এমএইচ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More