‘মৃত ভোটারে’র তালিকায় নাম,নির্বাচনে অংশ নেয়া অনিশ্চিত দুই প্রার্থীর!

0 69

||বঙ্গকথন প্রতিবেদক||

সোনাতলার আবুল কাশেম শেখ

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কাশেম শেখ। ৫ নং ওয়ার্ডে ভোটের লড়াইয়ের জন্য সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধে তার।  নির্বাচন অফিসের ডাটাবেজে মৃতদের তালিকায় পাওয়া যায় আবুল কাশেমের নাম। ফলে মনোনয়নপত্র কিনতে পারেন তিনি। একই বিপত্তিতে পড়েছেন শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রার্থী আবদুল মোত্তালেব ফেরদৌস। সাবেক এই ইউপি সদস্যকেও মৃত দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের কমিশনের ডাটাবেজে।

সোনাতলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম শেখ জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর এলাকাতে ফিরে বসবাস শুরু করেন। স্থানীয়দের অনুরোধে ২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌরসভার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এজন্য প্রয়োজনীয় দাফতরিক কাজ শেষে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়ে ভোটার তালিকায় প্রথমে তার নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে কমিশনের মৃতদের তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়।

আবুল কাশেম বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সংশোধনের পর ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তূর্ভূক্তির আগে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন শেষ না হলে যেটি সম্ভবও নয়। ফলে আমার আর এবার নির্বাচন করা হচ্ছে না।’


শাজাহানপুরের আবদুল মোত্তালেব

আবুল কাশেমের মতো একই বিড়ম্বনায় পড়েছেন শাজাহানপুরের আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবদুল মোত্তালেব ফেরদৌস। গত নির্বাচনেও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি। ফেরদৌস জানান, ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি তিনি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য নিবন্ধন করতে যান। কয়েক দফা চেষ্টার পর টিকার নিবন্ধন করতে না পেরে তিনি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার তালিকা যাচাই করতে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেখানে তার নাম পাওয়া যায় ওয়ার্ডের মৃত ভোটারের তালিকায়। ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি সংশোধনের আবেদন করেছি। জানি না সেটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়সীমার মধ্যে সংশোধন হয়ে আসবে কী না।’

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ’র সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে একজন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা সংশোধনের সুযোগ থাকে। সেক্ষেত্রে কারো নাম ভুলবশত মৃতদের তালিকায় থাকলে সেটি সংশোধনের আগে তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ ক্ষীণ।

এমএইচ//

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More