মমতার হার,তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়!

0 137

||বিদেশ-বিভূঁই প্রতিবেদন||

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফলে ২৯২ আসনের মধ্যে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২১৪টি আসনে জয় পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর দল। তবে দলের নিরঙ্কুশ জয়ের মাঝেও তৃণমূলের বিষাদ নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতার পরাজয়। বিকেল নাগাদ মমতা ব্যানার্জীর জয়ের খবর চাউড় হলেও রাত ৮টায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব জানান, মমতা নন; নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি’র হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামা শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গে ২৯২ আসনের মধ্যে  ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি পেয়েছে ৭৪টি আসন। ওদিকে ২০১৬’র নির্বাচনে ৩২টি আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে বামফ্রন্টকে মাঠ থেকে ফিরতে হয়েছে একেবারে শূণ্য হাতে। আর নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হওয়া ১২ আলোচিত নেতার মধ্যে ১০ জনই হেরেছেন পুরনো দলের প্রার্থীর কাছে।

মোদির অভিনন্দন মমতাকে:

‘দিদি ও দিদিইই’ সম্বোধনে বাংলায় প্রতিটি প্রচারে মমতাকে আক্রমণ শানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী বাংলায় তৃণমূলের বিরাট জয়ের পর সেই ‘দিদি’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী টুইট করেছেন,’দলকে আর্শীবাদ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগে বিজেপির তেমন শক্তি ছিল না। তা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে। মানুষের সেবা করে চলবে বিজেপি। সকল কর্মীদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।‘ তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে মোদীর বার্তা,’পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জয়ের জন্য মমতা দিদিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলার মানুষের স্বপ্নপূরণ ও কোভিড মোকাবিলায় সবরকম সহযোগিতা করবে কেন্দ্র।’

পরাজিত মমতা কী  ফের মূখমন্ত্রীর পদ পাবেন?

মমতা পুরো বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলেই এবার ছিলো দিনভর চমকের পর চমক। প্রাথমিকভাবে তৃণমূল নেত্রী জিতেছেন বলে খবর ছড়ালেও, গণনা শেষে দেখা যায় জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে দেড় হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা? এ বিষয়ে কী বলছে ভারতীয় সংবিধান?

ভারতের সংবিধান বলছে, দেশের কোনও রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার জন্য এই যোগ্যতাগুলি প্রয়োজন-

  • ভারতের নাগরিক হতে হবে।
  • রাজ্য বিধানসভার সদস্য হতে হবে তাকে। আর বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, তবে তাকে রাজ্যপালের সই নিতে হবে।
  • ২৫ বা তার বেশি বয়স হতে হবে।
  • কেউ হেরে যাওয়া সত্ত্বেও তার দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং দলের নতুন বিধায়করা তাকে নেতা বা নেত্রী নির্বাচিত করেন, তাহলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনও আইনি অসুবিধা নেই।
  • ভোটে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ভোটে জিতে আসতে হবে। তারপর ৫ বছরের জন্য অনায়াসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাকাঠামোর পরিবর্তন আনেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেই সময় তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। ২০১১-র ভোটে নিজে লড়েননি। তবে তার দল ঐতিহাসিক জয়লাভের পর তাকে নেত্রী নির্বাচিত করে। এরপর লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেন মমতা। ভবানীপুরে সুব্রত বক্সির জেতা আসনে উপ-নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপর ২০১৬ সাল পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হন। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে সে অর্থে কোনো বাধা নেই।

এমএইচ//

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More