ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা

0 43

করোনা সেরে ওঠার পর মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ভারতে। মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

কেউ মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্ত হলে, তার চিকিৎসায় কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যাবে, কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে- এ সবই ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ওই নিয়ম মেনেই চলতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ওষুধগুলি ছাড়া রোগীর চিকিৎসায় অন্য কোনও ওষুধ যাতে প্রয়োগ করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নির্দেশিকায়। 

তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মিউকরমাইকোসিস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দরকার সচেতনতা। করোনার আগেও বহু মানুষ মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্ত হতেন। তবে কোভিড এবং তার চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োগে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে। সে কারণে সুযোগসন্ধানী এই ছত্রাক নিঃশব্দে হামলা করছে শরীরে। 

ইএনটি বিশেষজ্ঞ দীপঙ্কর দত্ত ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, মিউকরমাইকোসিস রোগটি নিয়ে ছেলেখেলা নয়। সচেতনতা খুব জরুরি। বিশেষ করে যারা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন, অথচ ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সে কারণে করোনা থেকে সেরে উঠলেও, ইএনটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে শারীরিক পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তা মেনে চলা উচিত। যে ওষুধের কথা বলেছে, সেগুলোই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেন ব্যবহার করা হয়।

মিউকরমাইকোসিস-এর চিকিৎসায় কী কী করণীয়

‘জয়েন্ট ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’র পরামর্শ মেনে নির্দেশিকা দিয়েছে ভারত সরকার। তাতে বলা হয়েছে, অ্যাম্ফোটেরিসিন বি ওষুধ রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করতে হবে। অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (লাইপোজোমাল) এবং অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (ডিঅক্সিকোলেট) দেওয়া যেতে পারে।

অ্যাম্ফোটেরিসিন বি ওষুধ পাওয়া না-গেলে অথবা কোনো রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে, তখন পসাকোনাজল ইনজেকশনও ব্যবহার করা কথা বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (ডিঅক্সিকোলেট) ওষুধ ব্যবহার করলে যদি কোনও রোগীর কিডনির সমস্যা দেখা দেয় অথবা রোগীর মস্তিষ্কে মিউকরমাইকোসিস হলে, লাইপোজোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিন প্রয়োগ করার পরামর্শও দিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বেশ কিছু সতর্কতার কথাও মেনে চলতে বলা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন অথবা অক্সিজেন দিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। মাস্কও পরা যেতে পারে। আগেই মিউকোরমাইকোসিসকে মহামারি আইনে নথিভুক্ত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More