বিধানসভার কক্ষের নিচ থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের সন্ধান!

0 93

||বিদেশ-বিভূঁই প্রতিবেদন||

শতবর্ষী এই সুড়ঙ্গপথের সন্ধান মিলেছে ভারতের রাজধানী দিল্লির বিধানসভার একটি কক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিধানসভার সবুজ রঙের কার্পেটের নিচ থেকে একটি লোহার দরজার দেখা মেলে। কার্পেট সরাতেই দেখা মেলে সুড়ঙ্গ-মুখের। ইতিহাসবিদরা বলছেন, ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসনকাল গবেষণার সময় এর আগে তারা এই রহস্যজনক সুড়ঙ্গের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বৃটিশ আমলে দিল্লির বিধানসভার ভবনটি আদালত হিসেবে ব্যবহারের সময় বৃটিশ সেনারা এই সুড়ঙ্গ পথেই বিপ্লবী বন্দীদের আদালতে হাজির করতো।

ভারতের বাংলা গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ বলছে, দিল্লির বিধানসভার একটি কক্ষ থেকে চাঁদনী চকের লাল কেল্লা পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে গেছে এই সুড়ঙ্গ। ইতিহাসবিদদের ধারণা, ১০০ বছর আগে এই গোপণ সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। ১৯১২ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে ভারতের রাজধানী স্থানান্তর করার পর ১৯২৬ সালে দিল্লি বিধানসভা আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সম্ভবত ওই সময়ই এই সুড়ঙ্গ বানানো হয়েছিল।

সুড়ঙ্গটি তৈরির পেছনে ব্রিটিশ শাসকদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিলো বলে দাবি ইতিহাস বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, ব্রিটিশ আমলে যখন বর্তমানের বিধানসভাটি আদালত হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তখন বন্দি বিপ্লবীদের এই পথেই আদালতে হাজির করা হতো। এতে বন্দিদের পালানোর সুযোগ থাকতো না, আবার বাইরে থাকা বিপ্লবীদের ‘আসামী ছিনতাই’ হামলাও ঠেকাতে পারতো বৃটিশ-রাজ।

সুড়ঙ্গের ভেতর বন্দিদের থাকার জন্য ঘর আছে বলেও অনুমান ইতিহাসবিদদের। তবে বহু বছর ধরে বন্ধ থাকায় এবং কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য গোপণ এই সুড়ঙ্গের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার আবিষ্কারের পর মাত্র কয়েকশ মিটার যেতে পেরেছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই ৫ কিলোমিটার জুড়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হয়েছে গত এক শতাব্দীতে, তার ফলে সুড়ঙ্গের অনেকাংশই হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো সুড়ঙ্গ পথ আবিষ্কারের জন্য ব্যাপক খনন কাজের প্রয়োজন। আগামী বছরের ১৫ আগস্ট সদ্য আবিষ্কৃত এই ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গটি সাধারণ জনগণের দেখার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশা করছেন তারা।

এমএইচ//

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More