বগুড়ায় করোনা রোগীর মোবাইল ফোন চুরি

0 55

।। বঙ্গকথন প্রতিবেদন।।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজিবুল ইসলাম রাজন (৩৮) নামে এক যুবকের দু’টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতের পর কোন এক সময় হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে তার বেডের বি-৩৭ বালিশের নিচ থেকে ফোন দু’টি চুরি করা হয়। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বগুড়া সদর থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে। বগুড়া শহরের সুত্রাপুর এলাকার পৌর পার্কের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাজিবুল ইসলাম রাজন জানান, তাদের পরিবারের মোট ১১জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে তার এক চাচা চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭জুন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান। এর দু’দিন পর ৯ জুন তার এক ফুফুকে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনিসহ পরিবারের অন্যরা বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। কিন্তু ৯জুন দুপুরের পর থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করায় চিকিৎসার জন্য নিজেই মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে যান। কর্তৃপক্ষ তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে বি-৩৭ নং বেডে ভর্তি করান।

রাজন বলেন, ‘আমার ব্যবহৃত একটি ফিচার ফোন এবং অপর একটি অ্যানড্রয়েড ফোন আমি হাসপাতালে আমার বেডের বালিশের নিচে রেখে বুধবার রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার দু’টি মোবাইল ফোন নেই। দু’টি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি আমি টাকা-পয়সা লেনদেনের সুবিধার্তে ‘বিকাশ একাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করি। মোবাইল ফোন দু’টি না পেয়ে আমি আমার মায়ের মোবাইল ফোন থেকে বিষয়টি আমার স্বজনদের জানাই। রাজনের ফুফু সাংবাদিক নাসিমা সুলতানা ছুটু জানান, করোনায় দু’দিনের ব্যবধানের দুই ভাই- বোনের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন চিকিৎসাধীন থাকায় তার বাবার বাড়ির সবাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার ভাতিজার দু’টি মোবাইল ফোন চুরি যাওয়ার ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি আমি আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিক আমিন কাজলকে জানাই। তিনি সবকিছু শুনে আমাকে একটি জিডি করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমার স্বামী ওই বিষয়টি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয়কেও জানান। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুর পৌণে ১২টার দিকে সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।’

এসএফ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More