পাঁচ বছর পরও যে রেকর্ড-ঘরে ‘একা’ তামিম!

0 162

||খেলার মাঠ প্রতিবেদন||

‘আমি রেকর্ডগুলোকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যে-ই ভাঙুক, তার যেন খুব কষ্ট করতে হয়’—কথাটা তামিম ইকবাল বলেছিলেন ২০১৬ সালের আজকের এই দিনে। ভারতের ধর্মশালায় ওমানের বিপক্ষে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেটি এখনো কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের প্রথম ও শেষ সেঞ্চুরি। তামিম যা চেয়েছেন, তা–ই হচ্ছে। চেয়েছিলেন সতীর্থদের জন্য রেকর্ড ভাঙার কাজটা কঠিন করে তুলতে।

এখন পর্যন্ত তামিমকে সফল বলতেই হয়। বাংলাদেশ ২০১৬ বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। তামিমের সেই ১০৩ রানের ইনিংস এখনো কেউই ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। কাছাকাছিও যেতে পারেননি কেউ। তামিমের সেই ইনিংসের পর টি-টোয়েন্টিতে কোনো বাংলাদেশির ৮০ রানের বেশি ইনিংস একটাই—২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহাম্মদ নাঈম ৮১। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও পর্যন্ত ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি হয়েছে মোট ৫৮টি। বিশ্বের ২৬টি দেশের ৪৫ জন ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন এই ৫৮ সেঞ্চুরি। সবচেয়ে বেশি ৪ জন করে সেঞ্চুরিয়ান রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের। আর এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের রোহিত শর্মা।

প্রায় দেড় দশক ধরে চলমান ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্রতম সংস্করণে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির তালিকা করতে গেলে মিলবে শুধু একটি নাম। তিনি দেশসেরা ওপেনার ও সফলতম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটি করেছেন জাতীয় দলের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক। তবে তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি শুধু রেকর্ড সমৃদ্ধ করার ইনিংস নয়; সমৃদ্ধ করেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি মানসিকতা ও বিশ্বাসকে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তখন বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল এলোপাতাড়ি। খেলাটা ২০ ওভারের বলেই প্রতি বলে মেরে খেলতে হবে, এটাই ছিল টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশি মানসিকতা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংও যে ছকে আঁকা পরিকল্পনায় সাজানো সম্ভব, তা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট জানতই না!

২০০৭-০৮–এর দিকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং নিয়ে কিছুদিন আগে প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে তামিম বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে ফেলি ২০ ওভারের কথা চিন্তা করে। ২০০৮-০৯–এর দিকে এটা বুঝতাম না। তাড়াহুড়ো করে গিয়ে অনেকবার ৮০, ৯০, ১০০, ১১০ রানে আউট হয়েছি।’ বাংলাদেশ যত বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেছে, ততই এই মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ের ধারণা বদলেছে। ১২০ বলের খেলাতেও যে ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ মেনে সফল হওয়া সম্ভব, সেটি বুঝতে সময় লেগেছে বাংলাদেশের। আর তামিমের সেই ১০৩ রানের ইনিংসটিই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পরীক্ষার প্রথম ধাপ পার করার উদাহরণ। অতীতের তাড়াহুড়ো থেকে আজকের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সেতু গড়ে দিয়েছে তামিমের ওই সেঞ্চুরিই।

আরআই//এমএইচ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More