দীর্ঘ দিন পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিমান চলাচল শুরু, আনন্দ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা

0 132

দীর্ঘ ৪০০ দিন পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিনা বাধায় অর্থাৎ কোয়ারেন্টাইনমুক্ত বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘ট্রাভেল বাবল’ চালু হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণকারীরা। কোনো বাধা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে যেতে পারার আনন্দে বিমান বন্দরে আবেঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এদিন যাত্রীদের অনেককে আনন্দে কাঁদতে দেখা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এয়ারপোর্টে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন ৬৩ বছরের ডেনিস ও’ডনোঘুয়ে। তিনি বলেন, ‘চিৎকার করবো, কান্না করবো, জড়িয়ে ধরবো, সব আবেগ একসঙ্গে কাজ করছে।’

অস্ট্রেলিয়ার পতাকাবাহী কান্তাস এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী অ্যালান জয়সি সোমবার (১৯ এপ্রিল) বলেন, ‘৪০০ দিন পর কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারছেন। আমরা দিনে ১৬টি করে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করছি এবং সবগুলো যাত্রীতে পূর্ণ।’

তিনি জানান, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে ২০০টি করা হবে। যেখানে এয়ার নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, সোমবার তারা তাদের ফ্লাইট সংখ্যা চারগুণ করেছে এবং প্রতিটি ফ্লাইট ৯৭ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করেছে।

জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল নিউজিল্যান্ডের পর্যটনের বড় উৎস। ২০১৯ সালে তাদের মোট পর্যটকের ৪০ শতাংশ ছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে, সংখ্যায় যা প্রায় ১৫ লাখ।

এছাড়া নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় বাস করেন যা প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার দুই শতাংশ।

দুই দেশের মধ্যে বহু যাত্রী প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের সীমানা বন্ধ করে দেয়া হয়।

এই পদক্ষেপের কারণে দুই দেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা সংক্রমণও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫০০ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯১০ জনের। যেখানে নিউজিল্যান্ডে শনাক্ত হয়েছেন মাত্র দুই হাজার ২০০ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More