কালের সাক্ষী খেরুয়া মসজিদ

0 66

।বঙ্গকথন প্রতিবেদন।।

বগুড়ার শেরপুরে কালের সাক্ষী হয়ে আছে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর প্রাচীন খেরুয়া মসজিদ। উপজেলা শহরের অদূরে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে খন্দকারটোলায় গ্রামীণ সবুজ-শ্যামল পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। মসজিদটির নির্মাণ শৈলী আজো হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মোঘল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোঘল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের সামনের দেয়ালে একটি প্রাচীন ফারসি শিলালিপি দর্শনার্থীর চোখে পড়বে। শিলালিপিটি একটি ঐতিহাসিক দর্পণও বটে। এই শিলালিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ইতিহাসবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রোস্তম আলী তার ‘শেরপুরের ইতিহাস’ বইয়ে লিখেছেন, ৯৮৯ হিজরির ২৫ জিলহজ সোমবার ২০ জানুয়ারি ১৫৮২ খ্রি. মসজিদের জায়গা পরিদর্শন করা হয় এবং মির্জা নবাব মুরাদ খানের পৃষ্ঠপোষকতায় আব্দুস সামাদ ফকির ২৬ জিলহজ মঙ্গলবার ওই স্থানে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিন গম্বুজ বিশিষ্ট নজরকাড়া মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। এর বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট এবং প্রস্থ ২৪ ফুট। ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট ভেতরের দিক। আর মসজিদের চারদিকের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট। চারকোণায় চারটি মিনার ও পূর্ব দেয়ালে তিনটিসহ উত্তর-দক্ষিণে আরও দুটি দরজা রয়েছে। মাঝের দরজাটি অন্য দুটি থেকে আকারে অনেক বড়। আয়তকার ফ্রেমের মধ্যে অর্ধগোলাকার মেহরাবগুলো স্থাপিত। মসজিদের কার্নিশগুলো বাঁকানো। মসজিদের দেয়ালে কোনো কারুকার্য চোখে পড়ে না। এর দেয়াল সাদাসিধেই বলা যায়। মসজিদের প্রবেশদ্বারের দুই পাশে দুটি শিলালিপি ছিল। ডান পাশেরটি করাচি জাদুঘরে রাখা হয়েছে। আর বাম পাশেরটি অক্ষত অবস্থায় দেখা যায়। আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো, জানালাবিহীন মসজিদটির প্রবেশদ্বারগুলোতে কোনো খিলানের ব্যবহার নেই। মসজিদ নির্মাণে ইট, চুন ও সুড়কি ছাড়াও বৃহদাকার কৃষ্ণ পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। সম্রাট আকবরের সময় নির্মিত হওয়ায় মসজিদের দেয়ালের কিছু চিহ্ন নিয়ে অসংগতি প্রকাশ পায়।

এই মসজিদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক গল্পও বিদ্যমান। প্রচলিত আছে, এই মসজিদটি জিন জাতির দ্বারা নির্মিত। কেউ কেউ বলে থাকেন, মসজিদটি রাতারাতি তৈরি হয়েছে। তবে এখন এসব ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক, দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন এই মসজিদটি। এছাড়া মাঝেমধ্যে এখানে বিদেশি পর্যটক ও গবেষকদের দেখা মেলে। তবে এখন যে মসজিদটি খুব ভালো অবস্থায় আছে তাও বলা যায় না। মসজিদের আরও কিছু সংস্কার প্রয়োজন। তবেই কালের ইতিহাস হয়ে রবে এই প্রাচীন স্থাপনাটি।

এসএফ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More