বাঙালির ভাঙনে নিশ্চিহ্নের পথে ধুনটের ২৬ গ্রাম

0 40

উপজেলা প্রতিবেদক, ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাঙালি নদীর ভাঙনে তীরবর্তী বসতবাড়ি, আবাদি জমিসহ ২৬টি গ্রাম মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে নদীর কূলে বসবাসরত মানুষগুলো ভাঙনের শিকার হয়। এই বর্ষাতেও তার ব্যতিক্রম হলো না।

এরই মধ্যে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করে নি। নদীভাঙন রোধে কোনো আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীপাড়ের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।

উপজেলার উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে বহমান বাঙ্গালী নদী। উত্তরের সাতবেকি গ্রাম থেকে দক্ষিণে পেঁচিবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদীপথ। নদীর দুই পাশে তীরবর্তী ২৬টি গ্রাম সাতবেকি, পিরাপাট, ডেকরাঘাট, ধামাচামা, জয়শিং, নান্দিয়ারপাড়া, বেড়েরবাড়ী, নাংলু, ফরিদপুর, নিমগাছি, বিলচাপড়ি, হেউডনগর, হাসাপোটল, রামনগর, রাঙ্গামাটি, বিলনোতার, ঝাঁঝর, শৈলমারী, নলডেঙ্গী, বরইতলী, নবীনগর, বথুয়াবাড়ী, বিলকাজুলী, চকধলী, শাকদহ ও পেঁচিবাড়ীর অবস্থান।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ২৬টি গ্রামে কমপক্ষে ২২ বছর ধরে বাঙালি নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে জয়শিং, নিমগাছি, পেচিবাড়ি, রামনগর, ফরিদপুর গ্রামে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে এসব গ্রামের কমপক্ষে ২শ’টি পরিবারের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনে বদলে যাচ্ছে এলাকার মানচিত্র।

বর্তমানে বাঙালি নদীর পানি কমতে থাকায় প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে ভাঙন আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। নদী াঙন ধেয়ে আসছে বসতভিটা ও আবাদি জমির দিকে। নদী গ্রাস করছে নতুন নতুন এলাকা, বিলীন হচ্ছে জনপদ। আবাদী জমি কমে আসায় নিঃস্ব হচ্ছে গ্রামের মানুষ, বদলে যাচ্ছে এ সব মানুষের জীবন জীবিকার ধরন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, বাঙ্গালী নদীর ভাঙনরোধে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে ভাঙন প্রতিরোধ সহজ হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More