চলতে শুরু করলো আরো ১৮ জোড়া ট্রেন

0 39

বঙ্গকথন প্রতিবেদন

রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে প্রায় বেশিরভাগ রুটে ট্রেন চলছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি নাগাদ পর্যায়ক্রমে সব রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন পুরোপুরি চালু করবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তার ধারাবাহিকতায় নতুন করে আজ আরও ১৮ জোড়া আন্তনগর, মেইল, কমিউটার ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন রুটে এই ১৮ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালে বিভিন্ন গন্তব্যে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, নীলসাগর, সোনার বাংলা, তিস্তা, পারাবত ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস, এগার সিন্দুর প্রভাতী এক্সপ্রেস এই ট্রেনগুলো ছেড়ে গেছে বলে বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছে ঢাকার রেল কন্ট্রোল।

ট্রেন চলাচলের বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ‘যেহেতু এখন ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে, সেহেতু যাত্রীর চাপও বাড়বে। সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি নজরদারির লক্ষ্যে আমাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালানোর জন্য আমাদের যে সব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাত্রী এবং ট্রেন দুটোর ক্ষেত্রেই।’

আজ যে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা/উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে এগার সিন্দুর প্রভাতী এক্সপ্রেস, ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা রুটে যমুনা এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে এগার সিন্দুর গোধুলী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চট্রলা এক্সপ্রেস, সান্তাহার-বুড়িমারী-সান্তাহার রুটে করতোয়া এক্সপ্রেস, রাজশাহী-চিলাহাটি-রাজশাহী রুটে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহী-খুলনা রুটে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, সান্তাহার- দিনাজপুর-সান্তাহার রুটে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস, ঢালারচর-রাজশাহী-ঢালারচর রুটে ঢালারচর এক্সপ্রেস।

এছাড়াও, চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ঢাকা চট্টগ্রাম মেইল, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, ঢাকা-ঝাঝিরা-ঢাকা রুটে বলাকা কমিউটার, সান্তাহার- লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে বগুড়া কমিউটার, খুলনা-পার্বতীপুর-খুলনা রুটে রকেট এক্সপ্রেস, পার্বতীপুর-চিলাহাটি-পার্বতীপুর রুটে চিলাহাটি এক্সপ্রেস।

এদিকে, বরাবরের মতোই রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তনগর ট্রেনের টিকিট আগের মতো এক সঙ্গে অনলাইনে ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে। বিক্রিত টিকিট রিফান্ড করা যাবে না বা ফেরত নেয়া হবে না।

আজ থেকে যাত্রার দিন সহ ১০ দিন পূর্বে আন্তনগর ট্রেনসমূহের অগ্রিম টিকিট ইস্যু করা যাবে। যা আগে ছিল ৫ দিন।

যাত্রীদের সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোচের ধারণক্ষমতার শতকরা ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রি করা হবে। আন্তনগর ট্রেনে সব প্রকার স্ট্যান্ডিং টিকিট সুসম্পন্ন বন্ধ থাকছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল। তাছাড়া কৃষকের পণ্য পরিবহনে গত পহেলা মে থেকে বিভিন্ন রুটে চালু হয় পার্সেল স্পেশাল ট্রেন।

এদিকে,গত ৩১ মে প্রথম দফায় আট জোড়া আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়। ৩ জুন দ্বিতীয় দফায় আরও ১১ জোড়া আন্তনগর ট্রেন বাড়ানো হয়। তবে কিছুদিন পর যাত্রী সংকটে দুই জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর তৃতীয় দফায় ১৬ আগস্ট চালু হয় আরও ১৩ জোড়া ট্রেন। সর্বশেষ আজ সকাল থেকে চতুর্থ দফায় ১৮ জোড়া ট্রেন চালু হয়েছে।

বর্তমানে এখন মোট ৪৮ জোড়া, অর্থাৎ ৯৬টি ট্রেন চলাচল করছে বিভিন্ন রুটে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আরও ১৯ জোড়া ট্রেন রেলের বহরে যুক্ত হবে। এই ১৯ জোড়া ট্রেন যুক্ত হলে সব মিলিয়ে চলাচল করা ট্রেনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭ জোড়া অর্থাৎ ১৩৪টি।

সংবাদ-সূত্র : বার্তা২৪.কম

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More